গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করাই অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব : রিজভী

২১ অক্টোবর ২০২৪, ৫:২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেছেন, গণতন্ত্র শুধু নির্বাচন নয়, নির্বাচন একট বড় উপাদান। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তার পছন্দমতো ব্যক্তিকে ভোট দিতে পারেন। এটাই হচ্ছে গণতান্ত্রিক পরিবেশ। এই পরিবেশ নিশ্চিত করাই হচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব।

আজ সোমবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে সাভারের ব্যাংক টাউন এলাকায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পুলিশের গুলিতে নিহত শহীদ ইয়ামিন ও নাফিসার পরিবারকে বিএনপির পক্ষ থেকে অর্থ সহয়তা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় তিনি বলেন, ‘দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রেও আমরা কিছু জটিলতা দেখছি। আপনারা অবাধ ও সুষ্টু নির্বাচনের জন্য একটা পরিবেশ তৈরি করুন। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম এবং প্রধান কমিটমেন্ট হচ্ছে প্রকৃত গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনা।

তারা যে সংস্কারের কথা বলছে সেটার তো একটা উপসংহার থাকতে হবে। কিন্তু যদি সেটা উপসংহারহীন হয়, অনন্তকাল ধরে চলতে থাকে তখন তো প্রশ্ন উঠবেই। প্রকৃত গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হলে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন যেখান থেকে এ দেশের জনগণ বঞ্চিত হয়েছে ১৫ বছর, সেটা তো নিশ্চিত করতে হবে।

সুতরাং আপনারা নির্বাচন কমিশন নিয়ে, পুলিশ নিয়ে, বিচার বিভাগ নিয়ে, জনপ্রশাসন নিয়ে সরকার যে কমিশনগুলো করেছে সেগুলো যাতে দ্রুত কাজ করে, দ্রুত রিপোর্ট দেয় এবং অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

কারণ সংস্কারের মূল কাজটিতো করবে গণতান্ত্রিক পার্টি, যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, যারা ১৫ বছর গণতান্ত্রিক সংগ্রাম করেছে তাদের এটা তো আইনে প্রণীত করতে হবে। সুতরাং আসল কাজটি খুব বিলম্বিত করলে আন্দোলনের মূল স্পিডকে বাধাগ্রস্ত করে।

তিনি আরো বলেন, গণতন্ত্র হচ্ছে মানুষ যাতে শান্তিতে বসবাস করতে পারে এবং খোলা গলায় মানুষ যাতে সমালোচনা করতে পারে, কথা বলতে পারে এটাই তো গণতন্ত্র। আইনের শাসন থাকবে, কে কোন দল করে সেটা বড় কথা না। যে অপরাধী তাকে পুলিশ ধরবে এবং আইনের আওতায় আনবে, এটাই গণতন্ত্র।

সেটা নিশ্চিত করতে না পারলে সত্যিকারের অর্থে আবু সাঈদ, নাফিসা ও ইয়ামিনের মতো যারা জীবন দিয়েছেন তাদের আত্মত্যাগ তো বৃথা হয়ে যাবে। সত্যিকারের গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবিত করতে হবে, সেটার চর্চা করতে হবে, রাষ্ট্র এবং সমাজের মধ্যে গণতন্ত্রের বিকাশ ঘটনাতে হবে। সেই লক্ষ্যেই দেশনায়ক তারেক রহমান কাজ করে যাচ্ছে। সেই লক্ষ্যেই আমরা আজকে যারা এই আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সরকারের গুলিতে অথবা ছাত্রলীগ-যুবলীগের আক্রমনে কারো হাত গেছে, কারো পা গেছে এবং কেউ অন্ধ হয়ে গেছে তারা এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা যাতে হতাশার মধ্যে না পড়ে এ জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের পাশাপাশি আমাদের তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।

দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে সরকারে অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘মানুষ যাতে না খেয়ে থাকে সেই পরিবেশ যাতে সৃষ্টি না হয়, মানুষ যেন দুমুঠো খেতে পারে সে জন্য বাজার সিন্ডিকেট, মার্কেট সিন্ডিকেট যারা যারা আছে তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনাতে হবে। আমরা অল্প কিছু ড্রাইভ দেখতে পাচ্ছি। আরো ব্যাপক আকারে ড্রাইভ দেখতে চাই।’

এ সময় শহীদ ইয়ামিনের মা বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীকে বলেন, ‘আমার ছেলেকে কারা হত্যা করেছে, সেটা সবাই দেখেছে এবং সবাই জানে। আমি যেন ছেলে হত্যার বিচার পাই সে জন্য দ্রুত এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অনুরোধ করি।’ অন্যথায় তিনি বিচার না পাওয়ার শঙ্কা করেছেন। তার অনুরোধে ভিত্তিতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী দ্রুত বিচারের আশ্বাষ দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এর আগে তিনি বিএনপির পক্ষ থেকে শহীদ ইয়ামিন পরিবারকে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন এবং ইয়ামিনের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রোমান, উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল, বিএনপির সহ-পরিবার কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক ডা. দেওয়ান মো. সালউদ্দিন বাবু, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক খোরশেদ আলম, সাভার পৌর বিএনপির সভাপতি খন্দকার শাহ মাঈনুল হোসেন বিল্টু, আশুলিয়া থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গফুর মিয়া, ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নাজমুল হাসান অভিসহ আরো অনেকে।