নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে পারলে, নারীর বিরুদ্ধে অপরাধ প্রবণতা কমবে
নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে পারলে, নারীর বিরুদ্ধে অপরাধ প্রবণতা অনেকাংশেই কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা। তারা বলেছেন, দেশে নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, যৌন হয়রানি ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। দেশজুড়ে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোতে অপরাধের শিকার নারী ও শিশুদের ন্যায়বিচার নিশ্চিতে কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে অপরাধীরা পার পেয়ে যাবে ও অন্যরা অপরাধ করতে উৎসাহিত হবে।
সোমবার (১০ মার্চ) রাজধানীর মিরপুরে আলোক সেন্টারে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) আয়োজিত ‘নেতৃত্ব ও ক্ষমতায়নের পথে নারীদের অগ্রযাত্রা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ সব কথা বলেন তারা।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কেয়া খান বলেন, নারীদের জন্য সচেতনতামূলক কাজে সব সময় কাজ করে যাচ্ছি আমরা। নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়নের জন্য আমরা শুধু নারীদের নিয়ে চিন্তা করেছি। এই বিষয়ে পুরুষদের সম্পৃক্ত করে ভাবা হয়নি তেমন একটা।
এতে প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে নারী-পুরুষ, ছেলে-মেয়েরা। গবেষণার মাধ্যমে ব্যার্থতার জায়গাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
সভায় স্বাগত বক্তব্যে এমজেএফ’র নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম সাম্প্রতিক সময়ে যেভাবে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা চলছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি সকল অপরাধের ন্যায় বিচার দাবি করে বলেন, আইন উপদেষ্টা নির্দেশ দিয়েছেন, ১৫ দিনে তদন্ত ও ৯০ দিনের মধ্যে ধর্ষণের বিচার করতে হবে।
আমরা পর্যবেক্ষণ করবো এই কাথার বস্তবায়ন কতটুকু হয়।
তিনি আরো বলেন, ৮ বছর আগে এক শিশুকে ধর্ষণ করার অপরাধে যার শাস্তি হয়, আইনের ফাক ফোঁকর দিয়ে সে বেরিয়ে এসেছে। তারপরও হতাশ হলে চলবে না। নারীদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সকল অপরাধ রুখে দিতে হবে।
সভায় মূল প্রবন্ধে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পরিচালক বনশ্রী মিত্র নিয়োগী বলেন, নেতৃত্বের জায়গায় গার্মেন্টস শ্রমিকরা নিম্ন মজুরিধারী স্বল্প দক্ষতা সম্পন্ন শ্রমিক হিসেবে কর্মরত।
এখানে সুযোগ আছে নারীদের দক্ষ করে গড়ে তোলার। এছাড়াও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি প্রশ্ন করে বলেন, আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি। রীলসের মাধ্যমে উপস্থাপন হয়েছে বলে মাগুরার সাম্প্রতিক ধর্ষণের ঘটনায় আমাদের হৃদয়ে নাড়া দিয়েছে। অথচ ৮ বছর আগের ধর্ষণের আসামি ছাড়া পেয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তার কোন প্রতিবাদ নাই কেন? আমাদের গ্রহণযোগ্যতা ও সহ্য করে যাওয়াটা নারীর প্রতি সহিংসতা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ইনফ্লুয়েন্সিং ক্যাম্পেইন অ্যান্ড কমিউনিকেশনের পরিচালক নিশাত সুলতানা বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনা প্রবাহে কথা বলার শক্তি হারিয়ে গেছে, শক্তি সঞ্চার করে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি তার জীবনের গল্প বলতে গিয়ে জানান অনেক বাধা পেরিয়ে নিজে এগিয়ে যাচ্ছি।
সুইডিশ দূতাবাসের উন্নয়ন সহযোগিতা বিভাগের প্রধান মারিয়া স্ট্রিডসম্যান বলেন, বাংলাদেশে নারীদের অগ্রগতি সত্ত্বেও, বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট ২০২৪ অনুসারে, ১৪৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৯তম, যা দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে থাকলেও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ, মজুরি সমতা এবং নেতৃত্বের সুযোগে এখনো পিছিয়ে আছে। যেখানে নারী-পুরুষ, বালিকা ও বালকেরা সমানভাবে মূল্যবান ও সমান অধিকার ভোগ করে এমন একটি জেন্ডার-সমতাপূর্ণ সমাজ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
কানাডিয়ান হাই কমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি স্টেফানি সেন্ট-লরেন্ট ব্রাসার্ড বলেন, আমরা সত্যিই একটি সমতাপূর্ণ সমাজে বিশ্বাস করি। আমরা অবশ্যই নারীর ক্ষমতায়নে আমাদের প্রচেষ্টাগুলো নবায়ন করবো।
