নির্বাচনের জেরে চলাচলের রাস্তায় বাঁধা, ৬ শত লোকের ভোগান্তি-সত্যবয়ান
আবু তুরাব,ত্রিশাল(ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ ময়মনসিংহের ত্রিশালে নির্বাচনের জেরে প্রায় ৬শত লোকের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেছে এক পরাজিত ইউপি সদস্য প্রার্থী। এতে করে ৬ দিন যাবত চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছে ওই এলাকার অবরুদ্ধ লোকজন।
২৮ নভেম্বরের ভোট শেষে পরাজিত হয়ে উপজেলার ত্রিশাল ইউনিয়নের কোনাবাড়ী গ্রামের ৯ নং ওয়ার্ডের গজারিয়ার চর এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটান ওই পরাজিত ইউপি সদস্য প্রার্থী ও তার পরিবারের লোকজন।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনের পরের দিন ২৯ নভেম্বর সকালে ওই রাস্তায় চলাচলকারী লোকজন ঘুম থেকে উঠে দেখে পুকুরপাড়ের চলাচলের জন্য যে রাস্তাটি দিয়ে তারা চলাচল করতো তা কাটা রয়েছে। পরে তারা জানতে পারেন এটি পরাজিত ইউপি সদস্য প্রার্থী মোঃ আব্দুল মান্নান ও তার পরিবারের লোকজন কেটে রেখেছে।
তবে শুধু রাস্তা কেটেই ক্ষান্ত হননি ওই পরাজিত ইউপি সদস্য প্রার্থী ও তার পরিবারের লোকজন। কাদামাটি পেরিয়ে ছোট ছোট শিশুরা কাটা রাস্তা দিয়ে চলাচল করে বিধায় রাস্তা কাটার পর আবার বাঁশ দিয়ে ভেড়া দেয় তারা।
এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে ওই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী প্রায় ৬ শতো লোক। তারা এখন জুরুরি প্রয়োজনে মানুষের বাড়ির ভিতর দিয়ে ঝোপঝাড় পেড়িয়ে, অনেকটা পথ মাড়িয়ে চলাচল করছে। এতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তারা।
ভোক্তভোগী শামীম বলেন, আমরা কয়েকজন আমাদের পার্শ্ববর্তী ইউপি সদস্য মোঃ আব্দুল মান্নান এর পক্ষে নির্বাচনে কাজ করিনি। এই ক্ষোভে, আক্রোশে সে তার দলবল নিয়ে আমাদের প্রায় ৬শতো লোকের চলাচলের রাস্তা আটকিয়ে দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ শামসুল হক জানান, কারও সাথে ব্যক্তিগত আক্রোশ থাকতেই পারে, তাই বলে শতশত লোকের রাস্তা কেটে ও ভেড়া দিয়ে চলাচলে বাধা দিবে এটা কেমন কথা! এদের মতো লোকদের কঠোর শাস্তি দাবি করছি।
ভুক্তভোগী বয়োজ্যষ্ঠ আব্দুর রশিদ বলেন, রাস্তাটি বন্ধ থাকায় আমরা খুব কষ্টে আছি। আমাদের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা স্কুল-কলেজে যেতে পারছেনা এবং বয়স্ক মুরব্বিরা মসজিদে নামাজ পড়তে যেতে পারছেনা। দূ্র্বলদের সবসময়ই সবলদের দ্বারা নির্যাতিত হতে হয়। আমাদের কষ্টের বিচার আল্লাহর কাছেই দিয়ে রাখলাম।
মোঃ আমিরুল ইসলাম বলেন, ভোটের দিন রাত থেকেই আমাদের চলাচলের রাস্তা বন্ধ রয়েছে। ৫-৬ শত লোক এখান দিয়ে যাতায়াত করতো। আমাদের অপরাধ আমাদের বাড়ির কয়েকজন তাদের পক্ষে নির্বাচনে কাজ করেনি।
এ বিষয়ে পরাজিত ইউপি সদস্য প্রার্থীর স্ত্রী সংরক্ষিত ইউপি সদস্য জাহানারা খাতুন বলেন, তারা আমাদের লোকজনকে ভোটের আগের দিন রাতে মালামাল নিয়ে তাদের ঐখানে যেতে দেয়নি তাই আমরাও তাদের রাস্তা কেটে ও ভেড়া দিয়ে তাদের আমাদের এখানে আসতে দিচ্ছি না। অপরাধ তারা করেছে। আমাদের ১০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এই টাকা দিয়ে দিক রাস্তা খুলে দেবো।
তবে পরাজিত ইউপি সদস্য প্রার্থী মোঃ আব্দুল মান্নান এ বিষয়ে বলেন, পাড়ার নেতৃস্থানীয় মুরুব্বিরা আইসা বলুক আমি এখনি রাস্তা খুইলা দেবো। তারা বলার পরে আমার সাথে জাহিদ চেয়ারম্যান ও জাকির চেয়ারম্যানের সাথে কথা হয়েছে। তাদেরকেউ আমি বলেছি আপনাদের বলা লাগে কেন, এলাকার মুরুব্বীরা বললেই হয়।
এ বিষয়ে ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোঃ মাইন উদ্দিন বলেন, এবিষয়টি আমার জানা ছিল না। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
