শেরপুরে সাক্ষরতা উন্নয়নে সেমিনার||সত্যবয়ান

২০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১:৪২

স্টাফ রিপোর্টার||‘সাক্ষরতা শিখন কেন্দ্রের প্রসার’-এমন শ্লোগানে শেরপুরে সাক্ষরতার হার উন্নয়নে ১৯ সেপ্টেম্বর সোমবার এক সেমিনার হয়েছে। আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের তুলসিমালা প্রশিক্ষন কাম কম্পিউটার ল্যাবে গণসাক্ষরতা অভিযানের সহযোগিতায় দরিদ্র সমাজ উন্নয়ন সংস্থা এ সেমিনারের আয়োজন করে। জেলা গণশিক্ষা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোক্তার হোসেন-এর সভাপতিত্বে সেমিনারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোক্তাদিরুল আহমেদ প্রধান অতিথি এবং সহকারি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নূরে আলম মৃধা বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন। এতে মুলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দরিদ্র সমাজ উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক নাহিদা সুলতানা ইলা। প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে বয়স্ক সাক্ষরতার হার ৭৮ শতাংশে উন্নীত হলেও এখনো লিঙ্গ, পরিবারের আর্থ-সামাজিক অবস্থা, নৃ-তাত্ত্বিক পরিচয় এবং ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে অনেকেই সাক্ষতরতা অর্জন করতে পারেনি। এজন্য এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ২০৩০ সালের মধ্যে যাতে সকল মানুষ যেন সাক্ষরতা অর্জন করতে পারে তার জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। সাক্ষরতা অর্জনের জন্য নির্ধারিত প্রতিষ্ঠান বা কমিউনিটি পর্যায়ের লার্নিং সেন্টার সমূহের সমন্বিত উন্নয়ন প্রয়োজন রয়েছে। শিক্ষার্থী কেন্দ্রিক সাক্ষরতা কেন্দ্রের প্রসার এবং অধিকহারে তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর সাক্ষরতা কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। ন্যায্যতা ও সমতাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
সেমিনারে উল্লেখ করা হয়, শেরপুর জেলায় গত ১০ বছরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু ভর্তি এবং সাক্ষরতার হারের উন্নয়ন ঘটলেও এখনও জাতীয় মানের চাইতে তা অনেক নীচে। এখনও জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ঝড়ে পড়ার হার ১০ শতাংশ। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য বয়সভিত্তিক জরিপ কার্যক্রমের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করে গ্রামভিত্তিক শিখন কেন্দ্র চালুর মাধ্যমে জেলার সাক্ষরতার হার উন্নয়নের সুপারিশ করেন অংশগ্রহণকারীরা।
প্রধান অতিথি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোক্তাদিরুল আহমেদ বলেন, শেরপুর জেলায় শিক্ষার্থী ঝড়ে পড়ারোধ এবং সাক্ষরতার হার উন্নয়নের জন্য আমরা সমন্বিতভাবে ‘শেরপুর মডেল’ নামে গ্রামভিত্তিক একটি পরিকল্পনা করতে পারি। য ২০২৩ সাল থেকে শুরু করা যেতে পারে। যেখানে জরিপের মাধ্যমে পাড়া বা গ্রামভিত্তিক শিখন কেন্দ্র চালু করা যায়। সেমিনারে অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন, সমাজসেবা বিভাগের সহকারি পরিচালক আবু ইলিয়াছ মোল্লা, সহকারি জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল বাসার, প্রধান শিক্ষকা ইশরাত জাহান শম্পা, করোনা দাস কারুয়া, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আহসান হাবীব, ব্র্যক জেলা প্রতিনিধি ফারহানা মিল্কী, দরিদ্র সমাজ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মো. ইমান আলী প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য, ইমাম-পুরোহিত, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, এনজিও প্রতিনিধি সহ বিভিন্ন পর্যায়ের অর্ধশতাধিক সুধীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।