১১৩ তম জন্মবার্ষিকীর আলোচনায় বক্তারা-বিপ্লবী রবি নিয়োগীকে রাষ্ট্রীয় পদকে ভুষিত করার দাবী

১ মে ২০২৩, ৭:৩৮

স্টাফ রিপোর্টার: ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সিংহ পুরুষ, টঙ্ক, তেভাগা আন্দোলন থেকে শুরু করে মানুষের অধিকার আদায়ের আজীবন সংগ্রামী, পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠির চক্ষুশুল, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক বিপ্লবী রবি নিয়োগীর অবদানকে মূল্যায়ণ করে তাঁকে রাষ্ট্রীয় পদকে ভুষিত করার দাবী জানানো হয়েছে। ৩০ এপ্রিল রবিবার বিপ্লবী রবি নিয়োগীর ১১৩ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শেরপুর শহরের নিউমার্কেট সাংবাদিক বিপ্লবী রবি নিয়োগী সভাকক্ষ পরিচালনা পর্ষদ আয়োজিত আলোচনা সভায় এমন দাবী জানিয়েছেন বক্তারা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সভাকক্ষের সভাপতি সাংবাদিক সুশীল মালাকার। এসময় বিপ্লবী রবি নিয়োগীর জীবন ও কর্ম সম্পর্কে স্মৃতিচারণামুলক আলোচনায় অংশ নেন লেখক-গবেষক অধ্যাপক ড. সুধাময় দাস, জেলা মহিলা পরিষদ সভানেত্রী জয়শ্রী দাস ল²ী, সাংবাদিক আব্দুর রহিম, বিপ্লবী’র নাতি শুভজিৎ নিয়োগী। সভাকক্ষের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক হাকিম বাবুল অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। পরে সভাকক্ষের পক্ষ থেকে বিপ্লবী রবি নিয়োগীর আদর্শের যোদ্ধা প্রয়াত শ্রমিক নেতা মো. সেলিম মিয়ার পরিবারকে নগদ ১০ হাজার টাকা মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী শেরপুর জেলা সঙসদের শিল্পীরা গনসঙ্গীত পরিবেশন করেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, বিপ্লবী রবি নিয়োগী আজ আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু তিঁনি বেঁচে আছেন তাঁর কর্মে-আদর্শে। রবি নিয়োগীরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে ব্রিটিশ রাজ থেকে ভারত উপমহাদেশ স্বাধীন করেছেন। তারপরও মানুবমুক্তি না হওয়ায় পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠির বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রাম করে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমাদেরকে স্বাধীন বাংলাদেশ এনে দিয়েছেন। বিপ্লবী রবি নিয়োগীর সারাজীবনের সংগ্রাম ও ত্যাগের মূল্যায়ন করে তাঁকে মরনোত্তর স্বাধীনতা পদক কিংবা একুশে পদক দিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানীত করার দাবী করেন।
অধ্যাপক ড. সুধাময় দাস বলেন, বিপ্লবী রবি নিয়োগীকে সম্মান জানাতে পারলে আমরা নিজেরাই সম্মানীত হবো। তিঁনি মানুষের কল্যাণের জন্য, মানবমুক্তির জন্য আজীবন কাজ করেছেন। তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভুষিত করার মাধ্যমে জাতি হিসেবে আমরা সম্মানীত হতে পারবো।
সাংবাদিক বিপ্লবী রবি নিয়োগী সভাকক্ষের পক্ষ থেকে বিতরণকৃত এক পুস্তিকায় উল্লেখ করা হয়, শেরপুর শহরের গৃর্দানারায়ণপুর মহল্লার (পুরাতন গরুহাটি) জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণকারী বিপ্লবী রবি নিয়োগীর ১১৩ তম জন্মবার্ষিকী ছিলো ৩০ এপ্রিল শনিবার (বাংলা পঞ্জিকার বর্ষগণনা হিসাব মতে ১৩১৬ সালের ১৬ বৈশাখ)। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে মানুষের অধিকার রক্ষায় টঙ্ক আন্দোলন, তেভাগা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে রবি নিয়োগী ছিলেন একজন লড়াকু সৈনিক। শত নির্যাতন-নিপীড়ন, কারাভোগ করেও মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে তিঁনি কখনো পিছপা হননি। আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে বিপ্লবী রবি নিয়োগী আন্দামান সেলুলার জেল সহ বিভিন্ন মেয়াদে ৩৪ বছর কারাভোগ করেছেন। ফেরারি জীবন কাটাতে হয়েছে আরও অন্তত: ১৫ বছর। তিঁনি ছিলেন আদর্শনিষ্ঠ, সৎ, নির্লোভ, নির্ভীক, দেশপ্রেমিক। আজীবন নিষ্ঠ ছিলেন মানুষের কল্যাণ চিন্তায়। তিঁনি সর্বদাই একটি শোষণহীন, বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক সুন্দর সমাজের স্বপ্ন দেখেছেন। বিপ্লবী রবি নিয়োগী কেবল একজন ব্যক্তি নন, তিনি ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান। স্কুল জীবনেই তিঁনি গুপ্ত সমিতি যুগান্তরে দীক্ষা নিয়ে বিপ্লববাদী ধারায় সক্রিয় হয়েছিলেন। পরে তিঁনি কমিউনিস্ট পার্টির সাথে যুক্ত হন। ত্যাগী নেতা রবি নিয়োগী স্বাধীন বাংলাদেশে কিংবদন্তি হয়ে ওঠেছিলেন। ব্রিটিশদের জুড়ে দেওয়া ’ডাবল স্টার’-এর কারণে স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতেও জিয়া ও এরশাদ সরকারের আমলে তিঁনি কারাভোগ করেছেন। বিপ্লবী রবি নিযোগী কলম সৈনিক হিসেবেও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিষ্ঠ ছিলেন। তিনি বিনা বেতনে সাপ্তাহিক একতা ও দৈনিক সংবাদের শেরপুর জেলা বার্তা পরিবেশক হিসেবে আমৃত্যু কাজ করেছেন। ১৯০৯ সালে জন্মগ্রহণকারী বিপ্লবী রবি নিয়োগীর ২০০২ সালের ১০ মে সূদীর্ঘ কর্মময় জীবনের সমাপ্তি ঘটলেও যুগ-যুগান্তরের মানবমুক্তির লড়াইয়ের ধারায় তিঁনি লড়াকু মানুষের প্রেরণা হয়ে রয়েছেন।